ডিসেম্বর / ০১ / ২০২২ ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

অক্টোবর / ২৬ / ২০২২
০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০১ / ২০২২
০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

বালা-মসিবত থেকে বাঁচার দোয়া ও আমল



70

Shares

আল্লাহ তাআলা কিছু বিপদ-আপদ ও বালা-মসিবত দিয়ে বান্দাদের সতর্ক করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান, মাল ও ফলফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে..’ (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭)। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সকল বালা-মসিবতে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বান্দার কিছু করণীয় রয়েছে। এখানে বালা-মসিবতের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও আমলগুলো তুলে ধরা হলো।

দোয়া

ক. দোয়া ইউনুস পড়া: যে কোনো বিপদ-মসিবত, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল। দোয়া ইউনুস হলো— لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা, সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বলিমিন।’ অর্থ: ‘তুমি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই; তুমি পুতঃপবিত্র, নিশ্চয় আমি জালিমদের দলভুক্ত।’

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, আমি তোমাদের এমন বিষয়ের সংবাদ দেবো যে তোমাদের কারো ওপর যখন দুনিয়াবি কোনো কষ্ট-ক্লেশ অথবা বালা-মসিবত নাজিল হয়, তখন তার মাধ্যমে দোয়া করলে তা দূরীভূত হয়। তা হলো ইউনুস (আ.)-এর দোয়া—‘লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জলেমিন।’ (সহিহুল জামে: ২৬০৫)

দোয়া ইউনুস সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তখন আমি তার (ইউনুসের) ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে উদ্ধার করেছিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদের নাজাত দিয়ে থাকি।’ (সুরা আম্বিয়া: ৮৮)

খ. যেকোনো ক্ষতি থেকে বাঁচার বিশেষ দোয়া:  أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ‘আউজু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্ব।’ অর্থ: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কলেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির যাবতীয় অনিষ্টকারিতা থেকে পানাহ চাচ্ছি।’ (মুসলিম: ৬৭৭১)

আমল

ক. আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করা: আল্লাহর ভয়ে কান্না করলে আল্লাহ খুশি হন এবং কান্নাকারীকে রক্ষা করেন। যারা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে, তাদের প্রশংসায় আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তারা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়চিত্ততা আরও বৃদ্ধি পায়।’ (সুরা ইসরা (বনি ইসরাইল): ১০৯)

খ. তাওবা ও ইস্তেগফার করা: বিপদ-মসিবতে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে এবং তাঁর কাছে তাওবা করতে হবে। কেননা কোরআন-হাদিস প্রমাণ করে যে মানুষের গুনাহর কারণেই বিপদ-মসিবতে আপতিত হয় এবং তাওবা ছাড়া তা দূরীভূত হয় না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।’ (সুরা আনফাল: ৩৩)

গ. সদকা করা: জান-মালের ওপরে বিপদাপদ ও আল্লাহর অসন্তোষ থেকে পরিত্রাণের অন্যতম উপায় হচ্ছে দান-সদকা করা। আর অন্যের প্রতি অনুগ্রহ করা। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সত্কর্মশীলদের অতীব নিকটবর্তী।’ (সুরা আরাফ: ৫৬)

ঘ. তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা: আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন, তোমরা অবশ্যই রাতের ইবাদত করবে। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী সত্কর্মপরায়ণদের অভ্যাস, আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের উপায়, গুনাহসমূহের কাফফারা এবং পাপ কর্মের প্রতিবন্ধক। (তিরমিজি: ৩৫৪৯)

ঙ. তাকওয়া অবলম্বন করা: যারা আল্লাহকে ভয় করে, তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলে, মহান আল্লাহ নিজেই তাদের রক্ষা করার ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দেন।’ (সুরা তালাক: ০২)

চ. আল্লাহর ওপর ভরসা ও বিশ্বাস রাখা: বিপদে বিচলিত না হয়ে মহান আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখতে হবে। তিনি অবশ্যই আমাদের বিপদ থেকে মুক্ত করবেন এবং সাময়িক বিপদের বিনিময়ে আরও উত্তম কোনো নিয়ামত দিয়ে পুরস্কৃত করবেন। যারা এভাবে সুখে-দুঃখে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে, পবিত্র কোরআনে তিনি তাদের প্রশংসা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাব। এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ এবং রহমত বর্ষিত হয়, আর তারাই সৎপথে পরিচালিত।’ (সুরা বাকারা: ১৫৬-১৫৭)

ছ. ধৈর্য ধারণ: বিপদ থেকে উত্তরণের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল হলো ধৈর্য। ধৈর্য নবীদের গুণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, যেমন ধৈর্য ধারণ করেছেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসুলগণ।’ (সুরা আহকাফ: ৩৫)। বিপদে ধৈর্য না হারিয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ঠাণ্ডা মাথায় তা থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। এতে দুনিয়ার বিপদ থেকে যেমন সহজে মুক্ত হওয়া যায়, আখেরাতেও পুরস্কার পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সফলকাম বলেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আজ আমি তাদেরকে তাদের ধৈর্যের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে তারাই সফলকাম।’ (সুরা মুমিনুন: ১১১)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিপদ-মসিবতে আল্লাহর কাছে দোয়া করার এবং উপরোক্ত আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

অক্টোবর / ২৬ / ২০২২
০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০১ / ২০২২
০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

ইসলাম ও জীবন