ডিসেম্বর / ০১ / ২০২২ ১০:০১ পূর্বাহ্ন

শাহিদ হাতিমী

অক্টোবর / ১৭ / ২০২২
০৮:৫০ অপরাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০১ / ২০২২
১০:০১ পূর্বাহ্ন

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্লোগান নারায়ে তাকবির-আল্লাহু আকবার



86

Shares

আল্লাহু আকবার, নিছক কোনো স্লোগান নয়! কোথাও যখন নারায়ে তাকবির ধ্বনি উচ্চারিত হয়, তখন আল্লাহু আকবারের উচ্চ আওয়াজে বিশ্বাসী দেহমন আলোড়িত না হয়ে পারে না! আল্লাহু আকবার মানে আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহু আকবার হচ্ছে অংশীদারহীন অর্থাৎ লা-শরিক একটি উচ্চারণ। সৃষ্টিকর্তা মহান স্রষ্টার বড়ত্বের ঘোষণা। আল্লাহু আকবার বাক্যটি মুসলমানদের ঈমানকে তেজোদ্দীপ্ত করে। মনের ভেতর থেকে ভয়-ভীতি দূর করে। মুমিন জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আল্লাহু আকবর’-এর প্রভাব এতো বেশি, যা জীবনকে আলোকিত করে রাখে। মহান আল্লাহ পবিত্র আল কুরআনের সুরা ত্বোয়া-হা'র ১৪ নম্বর আয়াতে বলেন- আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব, আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। 

‘আল্লাহু আকবার' ধ্বনিতে মুমিনগণ সাক্ষ্য দেন- সমগ্র জাহানের একমাত্র মালিক প্ররাক্রমশালী মহান আল্লাহ। আল্লাহর বড়ত্ব মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে তা প্রকাশ করার একটি মাধ্যম তাকবির ধ্বনি। ‘আল্লাহ’ এমন জাত, যিনি সয়ম্ভূ, সদা বিরাজমান, পূর্ণতার সব গুণাবলির উৎস, তিনিই রব, তিনিই স্রষ্টা। আকবার’ মানে সবচেয়ে বড়। সৃষ্টিকূলের সব কিছু তার সামনে ছোট। আলী (রা.) বলেন, ‘আল্লাহু আকবার’ অর্থ হলো, যিনি মর্যাদায় মহান, রাজত্বের শ্রেষ্ঠতম সুলতান। তাঁর চেয়ে সম্মানিত কেউ নেই। তাঁর চেয়ে বড় রাজাধিরাজ কেউ নেই। সব ক্ষমতার উৎস একমাত্র তিনিই।

মহান আল্লাহই তাঁর বান্দাদের তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করার আদেশ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলো, প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সার্বভৌমত্বে কোনো অংশী নেই এবং তিনি দুর্দশাগ্রস্ত হন না যে কারণে তাঁর অভিভাবকের প্রয়োজন হতে পারে; সুতরাং সসম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা করো।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১১১)। কিছু শব্দ এমন আছে, যেগুলো মানুষের গুনাহকে ঝরিয়ে দেয়। যার মধ্যে ‘আল্লাহু আকবার’ অন্যতম। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি শুকনা পাতাওয়ালা গাছের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করলে হঠাৎ পাতাগুলো ঝরে পড়ে। অতঃপর তিনি বলেন, কোনো বান্দা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ‘সুবহানাল্লাহ’, লাইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার, আল্লাহ তাআলা অতি পবিত্র এবং আল্লাহ তাআলা ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি অতি মহান) বললে তা তার গুনাহসমূহ এরূপভাবে ঝরিয়ে দেয় যেভাবে এ গাছের পাতাসমূহ ঝরে পড়েছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৩৩)। 

বিশ্ববিখ্যাত স্কলার ও দাঈ শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসায়মিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘আল্লাহু আকবার’-এর চমৎকার অর্থ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তা হুবহু তুলে ধরা হলো-‘আল্লাহু আকবার’ অর্থ হচ্ছে- হাকিকত এবং আক্ষরিক অর্থে আল্লাহ তাআলা সব কিছুর চেয়ে বড় এবং মহান। তিনি ইলম (জ্ঞান), কুদরাত (ক্ষমতা), সামি (শোনা), বাসির (দেখা) এবং কর্তৃত্বে সব কিছুর চেয়ে বড়। 

এমনকি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সত্ত্বাগত দিক থেকেও সবচেয়ে বড়। কিন্তু তিনি কত বড়? সাত আসমান এবং সাত জমিন পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার হাতের তালুতে কীসের মতো? মহান আল্লাহর কাছে এসব (এতোই ছোট); যেন আমাদের কারো হাতের তালুতে একটা সরিষার দানার মতো! কেননা আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেন-‘ওরা আল্লাহর যথোচিত কদর করেনি। কেয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তাঁর হাতের মুঠোয় থাকবে এবং আকাশমন্ডলী থাকবে তাঁর ডান হাতে গুটানো। পবিত্র ও মহান তিনি, ওরা যাকে অংশী করে, তিনি তার উর্ধ্বে।’ (সুরা যুমার : আয়াত ৬৭) হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা আরশ সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, আরশ কত বড় সেটা মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব নয়। তাহলে চিন্তা করে দেখুন, আরশের সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহ) কত বড়, কতো মহান!!

যারাই মহান আল্লাহর প্রশংসায় অন্তর থেকে এ তাকবির দেবেন; আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও পরকালে তাদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেবেন। যুগে যুগে বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী তথা ঈমান আর কুফরের মাঝে যতো লড়াই হয়েছে, সবসময়ই বিশ্বাসী বা ঈমানদাররা বিজয়ী হয়েছেন এই আল্লাহু আকবার ধ্বনিকে কাজে লাগিয়ে। হজরত শাহজালাল রাহ. এর সঙ্গী সৈয়দ নাসির উদ্দীন আল্লাহু আকবারের আজান দিলেন, বেঈমান রাজা গৌড়গবিন্দের সাততলা অট্টালিকা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল! সনাতনী বখাটেদের বিরুদ্ধে যেমন ভারতের মোসকানের মাধ্যমে আল্লাহু আকবার ধ্বনির শান বৃদ্ধি পেয়েছে, একইভাবে জুলুমবাজের বিরুদ্ধে কথা বলতে যেয়ে চট্টগ্রামে হুম্মাম কাদেরের কণ্ঠে মহামহিম খালিকের শান "আল্লাহু আকবার" স্লোগানটি গোটা বাংলায় আলোড়ন তুলেছে। বলতে দ্বিধা নেই, আল্লাহু আকবার নিছক কোনো স্লোগান নয় বরং এটি একটি জাগরণ, সাইক্লোন। এটাকে নিয়ে যারা ব্যাঙ্গ করে তারা অপরিণামদর্শী। 

মনে রাখতে হবে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউই চিরঞ্জীব নয়। সব মাখলুকের সকল দাপট শেষ হয়ে যাবে, রয়ে যাবেন একমাত্র খালিক মহান আল্লাহ এবং তার আল্লাহু আকবারের স্লোগান! কেননা আল্লাহ তায়ালা ছিলেন, আছেন থাকবেন। যেহেতু আল্লাহর নাই হওয়াটা অসম্ভব সেহেতু তাঁর তাকবির "আল্লাহু আকবার" স্লোগানেরও ইতি নেই। ভাষার বাজারে দুনিয়ায় যতো বাক্য রয়েছে, "আল্লাহু আকবার" এর সমকক্ষ একটি বাক্যও নেই। এটাই সবচেয়ে বড় এবং শ্রেষ্ঠ বাক্য। কবি নজরুল যথার্থই বলেছিলেন- চির উন্নত মম শির, বল নারায়ে তাকবির; আল্লাহু আকবার। শেষ কথা হল- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্লোগান হচ্ছে নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।

লেখক: সাহিত্য সম্পাদক- যুব জমিয়ত বাংলাদেশ

শাহিদ হাতিমী

অক্টোবর / ১৭ / ২০২২
০৮:৫০ অপরাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০১ / ২০২২
১০:০১ পূর্বাহ্ন

সাহিত্য