ডিসেম্বর / ০১ / ২০২২ ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

জৈন্তা বার্তা রিপোর্ট

নভেম্বর / ২৪ / ২০২২
০৯:৩০ অপরাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০১ / ২০২২
১০:৩১ পূর্বাহ্ন

স্বপ্ননাবিক মজিদ আলীকে গবেষণার মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে

দ্যা হিস্ট্রি অব মজিদ আলী শীর্ষক মতবিনিময়



122

Shares

আজ থেকে সেই শতবছর আগে। ১৯২০ সালে আমেরিকায় পাড়ি জমান সিলেটের মজিদ আলী। ধারণা করা হচ্ছে মার্কিনে পাড়ি দেওয়া প্রথম বাঙালি হচ্ছেন মজিদ আলী। স্বপ্নবাজ এই নাবিককে নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় "দ্যা হিস্ট্রি অব মজিদ আলী" শীর্ষক এক মতবিনিময় আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চমৎকার মতবিনিময় আড্ডায় মজিদ আলীর জীবনের নানাদিক নিয়ে আলোকপাত করেন তাঁর সুযোগ্য ছেলে, প্রবাসী কুদরত উল্লাহ আলী।

এতে অংশগ্রহনকারী সিলেটের বিশিষ্টজনেরা অভিমত পেশ করে বলেন- মজিদ আলী নিয়ে গবেষণা করা সময়ের দাবী। একটি স্মৃতি সংসদ কিংবা একটি স্মারক প্রকাশের মাধ্যমেও মজিদ আলীকে প্রাসঙ্গিক করা উচিত। কেউ কেউ বলেন আমাদের মন বলছে মজিদ আলী হচ্ছেন সিলেটের প্রথম আমেরিকা প্রবাসী। আর হয়তো তিনিই তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথম আমেরিকা প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধা। এ বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

মতবিনিময়ে মজিদপুত্র কুদরত উল্লাহ আলী বলেন- স্বপ্নবাজ দুরন্ত নাবিক, বাঙ্গালির আরেক গর্বিত কলম্বাস-মজিদ আলী। শতবছর আগে ভারতের মুম্বাই নৌবন্দর থেকে পাল তোলা জাহাজে চড়ে জীবনের চক্রাবর্তে আমেরিকায় এসে থিতু হন সেই ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে। তারপর আত্মদায়বদ্ধতায় তিনি সন্ধান করেন বিচিত্র কর্মকান্ড এবং প্রতিভার গুণে তাঁর জীবন হয়ে ওঠে বর্ণাঢ্য। এই কৃতীব্যক্তি খ্যাতি অর্জন করেন দুনিয়াময়, সিলেটের সন্তান মজিদ আলী দুঃসাধ্যকে সাধ্যে আনা বাংলাদেশী সাহসী যুবক। অত্যান্ত আত্মবিশ্বাসী যুবক মজিদ আলী ১৮৯২ সালের ৫ই ডিসেম্বর কানাইঘাট থানার নিভৃত অঞ্চল সুরমা তীরবর্তী গ্রাম পূর্ব বাউরভাগে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

বিশিষ্ট ব্যাংকার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মজিদ আলী পুত্র কুদরত উল্লাহ আলী আরো বলেন- সুন্দর মনের মানুষ, অসম সাহসী, জীবন সংগ্রামে এক বিজয়ী সৈনিক, বর্ণাঢ্য জীবণের অধিকারী মজিদ আলী ১৯৭৮ সালের ১৫ জুলাই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরপারে চলে যান, তিনি আমার জন্মদাতা পিতা। 

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) আয়োজিত আড্ডায় স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে বাবার অতীত বর্ণনা করে বলেন- আমাকে বাবা কি যে স্নেহ করতেন, ভালোবাসতেন, তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমাকে চোখের আড়াল হতে দেননি কখনো। কিন্তু তার মৃত্যুর পর একসময় আমাকে জীবনের কাছে হার মানতে হলো, চলে আসতে হলো বাবার স্মৃতিগাঁথা সেই আমেরিকায়। আসার পর আমি জানতে পারি এইসব কথা। আমার হাতে এসে পৌঁছায় কিছু কাগজ পত্র। আজ অনেকদিন পর কেন যেন মনে হচ্ছে তার সেইসব দিনের কথা কি আমাদের আগামী প্রজন্মকে জানানো যায় না? আর এই জানানোর আকুতি থেকেই আজকের প্রয়াস। 

অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন জালালাবাদ গ্যাস লি. এর মহাব্যাবস্থাপক শহিদুল ইসলাম শামীম, কানাইঘাটের বিশিষ্ট মুরব্বি তৈমুর রশীদ, বিশিষ্ট আইনজীবী দেওয়ান মিনহাজ গাজী, অধ্যাপক সাব্বির আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আব্দুল কাদের তাপাদার, সাবেক ব্যাংকার বদরুল আমিন হারুন, দৈনিক জৈন্তা বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক ফারুক আহমদ, ইমজা সভাপতি মঈনুদ্দিন মঞ্জু, সেক্রেটারি মারুফ আহমদ, শিক্ষাবিদ আব্দুর রহীম, মোহাম্মদ তারেক চৌধুরী, দৈনিক সিলেটের জমিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মো. আব্দুল কুদ্দুস, ফয়জুল ইসলাম বাবুল, ফটো সাংবাদিক শেখ নাসির, এএ চৌধুরী শিপার, মো. আবু হানিফ, মাসুক আহমদ, আবুল কাশেম, আব্দুল মোছাব্বির, ওয়াসিম ইসলাম, শাহিদ হাতিমী, আব্দুর রহমান, সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশাহ, শাহীন আলীসহ সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গ।


জৈন্তা বার্তা রিপোর্ট

নভেম্বর / ২৪ / ২০২২
০৯:৩০ অপরাহ্ন

আপডেট : ডিসেম্বর / ০১ / ২০২২
১০:৩১ পূর্বাহ্ন

সিলেট